অপহরণের পাঁচ দিন পর, মুক্তি পেলো ৩ আদিবাসী!

পাহাড়ে অপহরণ হওয়া মানেই মৃত্যু অনিবার্য। দীর্ঘদিনের হত্যাকান্ডের পরিসংখ্যাণই এই ধারণা তৈরি করেছে পাহাড়বাসীর মনে। কিন্তু সেই ধারণায় চিড় ধরিয়েছেন বাঘাইছড়ির সেই তিন ‘ভাগ্যবান’ অপহৃত। নানান দেন দরবার শেষে পাঁচদিন পর জিম্মিদশা থেকে মুক্তি মিলেছে তাদের।

তারা হলেন- ইউপি মেম্বার সমীরণ চাকমা (৪২), অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক পূর্ন কিশোর চাকমা (৬০) ও গ্রামবাসী মেরিন চাকমা (৫৫)। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুরে উপজেলার বাঘাইছড়ি ইউনিয়নের দুর্গম মোরঘোনা এলাকায় চোখবাঁধা অবস্থায় তাদের ‘মুক্তি’ দেয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন তাদের স্বজনরা।

অবশ্য ‘মুক্তিপণ’ হিসেবে নগদ ৫ লাখ ৬৫ হাজার টাকা দিতে হয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেলেও ‘নিরাপত্তার স্বার্থে’ বিষয়টি স্বীকার করেননি অপহৃতদের স্বজনেরা।

তবে ‘অপহৃত তিন জনের মুক্তি পাওয়ার বিষয়টি শুনেছেন’ বলে জানিয়েছেন বাঘাইছড়ি থানার ওসি এমএ মনজুর।গত শনিবার (১৩ মার্চ) ভোররাতে অপহৃতদের নিজেদের বাড়ি থেকে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে যায় অজ্ঞাত দুর্বত্তরা। অপহৃতদের মধ্যে সমীরণ চাকমা বাঘাইছড়ি উপজেলার জীবতলী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার আর পূর্ন কিশোর চাকমা একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অপহৃতদের এক স্বজন জানান, ‘অপহরণকারীদের পরিচয় নিশ্চিত হয়েই থানায় কোন অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। নানাভাবে যোগাযোগ করে অপহৃত তিনজনকে জীবিত ফেরত পেতে চেষ্টা চালিয়েছি। এ কারণে পাঁচদিন পরে হলেও তাদের ফিরে পেয়েছি’।

আরেক স্বজন জানিয়েছেন, ‘অপহরণকারীরা পাহাড়ের আঞ্চলিক দল সন্তুলারমার পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি(জেএসএস) এর সামরিক শাখার অস্ত্রধারি। অপহৃতদের মুক্তিপণ হিসেবে নগদ ৫ লাখ ৬৫ হাজার টাকা দিতে হয়েছে’। তবে অপহৃতরা এ বিষয়ে প্রশাসন ও গণমাধ্যমে কোন কথা বলতে চাননি। এমনকি বাঘাইছড়ির এ অপহরণ নিয়ে সন্তুলারমার জেএসএস কোন বক্তব্য দেয়নি।

অপহৃতদের স্বজনরা জানান, প্রথমে অপহরণের শিকার হন ইউপি মেম্বার সমীরণ চাকমা। ভোর রাতে অস্ত্রের মুখে তাকে একদল অস্ত্রধারী তার নিজ বাড়ি থেকে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। এরপর উপজেলার উগলছড়ি গ্রামের মরঘুনাছড়া লিচু বাগান এলাকা থেকে শিক্ষক পূর্ণ কিশোর চাকমা তুলে নিয়ে যায়। পরে মধ্যোম বাঘাইছড়ি গ্রাম থেকে তুলে নিয়ে যায় মেরিন চাকমাকে।