ইরানকে টপকে করোনায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু ইতালিতে

চীনে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার কমতে থাকলেও বিভিন্ন দেশে মৃত্যুর মিছিল বাড়ছে। এর ধারাবাহিকতায় ইতালিতে এখন পর্যন্ত ৭৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। চীনের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু এখন ইতালিতে। এর আগে গতকাল দেশটিতে একদিনেই ২৭ জনের মৃত্যু হয়।

এশীয় অঞ্চলের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা ইরান ও দক্ষিণ কোরিয়ায়। দেশ দুটিতে দ্রুত হারে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। ইরানে এখন পর্যন্ত ৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, আর আক্রান্তের সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়ে গেছে। গতকাল দেশটির ২৩ জন এমপি ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবার প্রধান করোনায় আক্রান্ত হন।

তবে চীনের বাইরে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে দক্ষিণ কোরিয়ায়। সেখানে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৩২৮ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। আর মৃত্যু হয়েছে ৩২ জনের। দেশটির একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষের মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়ায় ব্যাপকভাবে করোনা ছড়িয়ে পড়ে। জাপানেও করোনার ব্যাপক সংক্রমণ ঘটেছে। সেখানে আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার মানুষ, আর মৃত্যু হয়েছে অন্তত সাতজনের।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রেও ক্রমে ভয়াবহ আকার ধারণ করছে করোনাভাইরাস। দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। তারা সবাই রাজধানী ওয়াশিংটনের বাসিন্দা। সেখানকার একটি নার্সিং হোমকে করোনার হটবেড বলা হচ্ছে। করোনার কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইতোমধ্যেই জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে ওয়াশিংটন ও ফ্লোরিডা।

অন্যদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করে দিয়ে বলেছে যে, করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্ব ‘অরক্ষিত অঞ্চল’ হয়ে উঠেছে। এই ভাইরাসটি যেভাবে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, সেটিকে ‘ব্যতিক্রম’ বলে বর্ণনা করেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেডরোস আধানম গেব্রিয়াস। তিনি করোনাভাইরাসকে ফ্লুর চেয়ে ভয়াবহ বলেও উল্লেখ করেছেন।

উল্লেখ্য, চীনের উহান শহর থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসে বিশ্বজুড়ে ৯৩ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আর মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৩১৯৮ জনের। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়েছে অন্তত ৭৬টি দেশে।