একজন নারী ও বিচারকের মানবিকতা

এক বিচারকের চেষ্টায় ডাস্টবিনের পাশ থেকে হাসপাতালে পৌঁছেছেন মৃতপ্রায় এক নারী। নাটোর শহরের চাকরামপুর মহল্লার পঁচুর হোটেলের সামনে অবস্থিত ডাস্টবিনের পাশ থেকে ওই নারীকে পুলিশের সহযোগিতায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন জেলার জ্যেষ্ঠ সহকারী জজ মতিউর রহমান। বর্তমানে ওই নারী নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

শুক্রবার বিকালের এ ঘটনার পর মতিউর রহমান তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে জানান, ওইদিন বিকেলে তিনি একা একা হাঁটতে বেরিয়েছিলেন। এ সময় হঠাৎ পঁচুর হোটেলের সামনে অবস্থিত ডাস্টবিনের সামনে এক নারীকে পড়ে থাকতে দেখেন। ওই নারীর চোখ, নাক ও মুখে ভনভন করছিল মাছি। দূর থেকে দেখে মনে হচ্ছিল, কোনো মৃত মানুষ পড়ে রয়েছে।

পরে কাছে এসে তিনি দেখতে পান, ওই নারী তখনও নিঃশ্বাস নিচ্ছেন। নিঃশ্বাস নেওয়ার ফলে তার পেট ওঠানামা করছে। তখন তিনি থানায় খবর দিলে পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে আসে এবং অটো রিকশায় করে ওই নারীকে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। হাসপাতালে চিকিৎসার ফলে ওই নারী এখন কিছুটা সুস্থ হন।

এ জন্য মতিউর রহমান হাসপাতালের চিকিৎসক ও পুলিশ সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তবে ওই নারীর নাম পরিচয় জানা যায়নি।

পরে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে মতিউর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, একজন মানুষ হিসেবে এটা তার কর্তব্য ছিল। তবে জেলা পুলিশ ও নাটোরের সিভিল সার্জন ওই নারীর জন্য অনেক কিছু করেছেন।

নাটোরের সিভিল সার্জন মিজানুর রহমান জানান, ওই নারী বর্তমানে সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক রাসেল হোসেনের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন আছেন। ডাস্টবিনের পাশে পড়ে থাকায় অবহেলা, অযত্নে তার শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে গেছে। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর কিছুটা সুস্থ হলেও এখনো কথা বলতে পারছেন না তিনি। শুধু ইশারায় জবাব দিচ্ছেন।