এমপিদের মত নিয়ে নতুন প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করছেন মালয়েশীয় রাজা

মাহাথির মোহাম্মদের পদত্যাগের পর নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্ধারণে সব সংসদ সদস্যের মতামত নেবেন মালয়েশিয়ার রাজা আব্দুল্লাহ রি’আয়াতুদ্দিন আল-মুস্তফা বিল্লাহ শাহ। মঙ্গলবার থেকেই শুরু হয়েছে এই সাক্ষাৎকার পর্ব, চলবে টানা দু’দিন।

রাজপরিবারের মুখপাত্র আহমাদ ফাদিল শামসুদ্দিন জানান, দলমত নির্বিশেষে এই সাক্ষাৎকার পর্বে আজ অংশ নিচ্ছেন ৯০ জন সংসদ সদস্য। তাদের একজন একজন করে সবার মতামত নেবেন রাজা আব্দুল্লাহ। এসময় সরকারের মুখ্য সচিব মো. জুকি আলীও উপস্থিত থাকবেন।

‘সাক্ষাৎকার হবে খুবই সাধারণ। সবাই বড়জোর দুই-তিন মিনিট করে সময় পাবেন। সাক্ষাৎকার চলবে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত। সোমবার রাতেই সব সংসদ সদস্যকে এ বিষয়ে জানিয়ে দেয়া হয়েছে।’

আহমাত ফাদিল বলেন, রাজা প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেয়ার ক্ষমতা রাখেন। কিন্তু তিনি সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত নিয়ে সেটি নির্ধারণ করবেন। এজন্য তিনি প্রথমবারের মতো ব্যক্তিগতভাবে সংসদ সদস্যদের সাক্ষাৎকার নেবেন।

দেশটির রাজনীতিতে সপ্তাহব্যাপী নানা নাটকীয়তার পর সোমবার দুপুরে আচমকা পদত্যাগ করেন মাহাথির মোহাম্মদ। পদত্যাগের পর তিনি রাজা আবদুল্লাহর সঙ্গে দেখা করতে রাজপ্রাসাদে যান। এসময় মাহাথিরকে দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন রাজা।

ডা. মাহাথির মোহাম্মদের পদত্যাগের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে দুই বাক্যের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, রাজার কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন তিনি। আনোয়ার ইব্রাহীম যেন ক্ষমতায় আসতে না পারেন; সেজন্য নতুন রাজনৈতিক জোট গঠনের লক্ষ্যেই প্রধানমন্ত্রিত্ব ছেড়েছেন তিনি।

আনোয়ার ইব্রাহীম এবং ৯৪ বছর বয়সী বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির ছিলেন দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী। তাদের মধ্যে সম্পর্ক দাঁ-কুড়াল হলেও ২০১৮ সালে দুর্নীতিগ্রস্ত নাজিব রাজাকের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করেন তারা। বিরোধী জোটের জয় হয়, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন মাহাথির মোহাম্মদ।

১৯৮১ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত টানা ২২ বছর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন মাহাথির মোহাম্মদ। তার শাসনামলে ব্যাপক উন্নয়ন হলেও স্বজনপ্রীতিসহ দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে মাহাথির সরকারের বিরুদ্ধে। কিছুদিন পর ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতিতে তাকে প্রধানমন্ত্রী করা হলেও, ক্ষমতা গ্রহণের পর তিনি এ নিয়ে নির্দিষ্ট কোন দিনক্ষণ জানাচ্ছিলেন না।

সোমবার সকাল পর্যন্ত দেশটির ক্ষমতাসীন জোটের ভাগ্য ছিল অনিশ্চিত। দুপুরে আচমকা মাহাথিরের কার্যালয় থেকে ঘোষণা আসে, তিনি দুপুর ১টায় রাজা ‘ইয়াং দি-পেরতুয়ান আগংগ’র কাছে পদত্যাগপত্র পাঠান। বিবৃতিটি ছিল মাত্র দুই লাইনের—যেখানে পদত্যাগের কোনো কারণ উল্লেখ করেননি মাহাথির।

এর কিছুক্ষণ আগে মাহাথিরের দল বারসাতু পার্টি ঘোষণা দেয়, ক্ষমতাসীন জোট পাকাতান হারাপান থেকে বের হয়ে যাচ্ছে তারা এবং তাদের ১১জন আইনপ্রণেতা আনোয়ার ইব্রাহীমের দল থেকে পদত্যাগ করেছেন। ফলে ‘প্যাক্ট অব হোপ’ নামের ওই জোটে ভাঙন ধরে এবং নতুন একটি জোট গঠনের খবর শোনা যেতে থাকে।

চারপাশে গুঞ্জন ওঠে নতুন এই জোট গঠনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মাহাথির মোহাম্মদ। দেশটির রাজনৈতিক মহলে এমন খবর চাউর হলেও খোদ আনোয়ার ইব্রাহিমের দাবি, বিষয়টি সত্য নয়। তিনি বলেন, মাহাথির তাকে নিশ্চিত করেছেন, তিনি এর (নতুন জোট গঠন) মধ্যে নেই।

আনোয়ার ইব্রাহিম আরও বলেন, তিনি এটা নিশ্চিত যে, আগের সরকার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে তিনি (মাহাথির মোহাম্মদ) আর কাজ করবেন না। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, নতুন এই জোটে থাকতে পারে ইউনাইটেড মালয়স ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন (উমনো)—যা সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের দল।

সূত্র: নিউ স্ট্রেইট টাইমস