করোনা আতঙ্কে টয়লেট পেপার মজুদ করার হিড়িক!

করোনা ভাইরাস নিয়ে বিশ্বজুড়ে যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, তাতে যোগ হয়েছে টয়লেট পেপার মজুদ। এখন সবচেয়ে আরাধ্য সামগ্রীগুলোর একটি হয়ে উঠেছে টয়লেট পেপার। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার কিছু মানুষের কাছে। তারা সুপার মার্কেটে গিয়ে ট্রলি বোঝাই করে টয়লেট পেপার কিনে মজুদ করা শুরু করেছেন।

দেশটির কর্তৃপক্ষ যদিও বার বার বলছেন, টয়লেট পেপারের কোন সংকট নেই, তারপরও কোন কাজ হচ্ছে না। অস্ট্রেলিয়ার সিডনি শহরের সুপারমার্কেটে টয়লেট পেপারের তাকগুলো মুহূর্তেই খালি হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে সুপারমার্কেট নিয়ম করে দিয়েছে যে, একজন চার প্যাকের বেশি টয়লেট রোল কিনতে পারবে না।

অস্ট্রেলিয়ায় গত ৪৮ ঘন্টায় পরিস্থিতি এতটাই বাজে দিকে মোড় নিয়েছে যে, মানুষ নাকি এখন পাবলিক টয়লেট থেকে টয়লেট রোল চুরি করছে।

অস্ট্রেলিয়ার সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন টয়লেট পেপার ক্রাইসিস এবং টয়লেট পেপারগেইট হ্যাশট্যাগ দুটি ট্রেন্ডিং-এর তালিকার শীর্ষে রয়েছে।

সুপারমার্কেট থেকে ট্রলি ভর্তি করে টয়লেট রোল কেনার হিড়িক পড়েছে। ছবি: সংগৃহীত

তবে টয়লেট পেপার নিয়ে এরকম ঘটনা কেবল অস্ট্রেলিয়ায় নয়, এর আগে সিঙ্গাপুর, জাপান এবং হংকং- এসব জায়গাও ঘটেছে। হংকংয়ে সশস্ত্র ডাকাতরা টয়লেট পেপার লুট করার মতো ঘটনাও ঘটিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রেও টয়লেট পেপার নিয়ে একই ঘটনা ঘটছে। আতকিংত লোকজন টয়লেট পেপার কিনে মজুদ করছে সেখানেও।

টয়লেট পেপার মওজুদের হিড়িক পড়ে যাওয়ায় অনেকেই বিরক্ত, কেউ কেউ এ নিয়ে অনলাইনে নানা কৌতুকও করছেন। ফেইস মাস্ক, তরল সাবান বা জীবাণুনাশক লোশন যেখানে করোনা ভাইরাস ঠেকাতে কিছুটা ভূমিকা রাখে, সেখানে টয়লেট পেপার নিয়ে কেন এত টানাটানি সে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।

বাড়িতে টয়লেট পেপার শেষ হয়ে গেলে তার যে অন্য বিকল্প আছে, সেটাও মনে করিয়ে দিয়েছেন কেউ কেউ।

অস্ট্রেলিয়ায় এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ৪১ জন, মারা গেছে একজন। অন্যান্য দেশের তুলনায় সংক্রমণের ঘটনা এখনো অনেক কম।