কসমেটিকসের নামে এসব কী!

নামিদামী শপিং মল থেকে বিশ্বমানের ব্রান্ডের মোড়কে আপনি যে শ্যাম্পু কিনছেন, সেটা তৈরি হয়েছে পুরান ঢাকার ঘিঞ্জি, নোংরা আর স্যাঁতসেঁতে কারখানায়! আতঙ্কজনক হলেও এটাই বাস্তবতা। শুধু শ্যাম্পু নয়, প্রায় সব প্রসাধনীর রয়েছে এমন নকল ভার্সন। বাইরে থেকে দেখে ধরার কোনো উপায় নেই, কারণ আন্তর্জাতিক সব ব্র্যান্ডের খালি বোতলে করেই সেসব বাজারজাত করা হচ্ছে।

ভেজাল কসমেটিকসের এমন খবর এটাই প্রথম নয়। তবে নতুন করে তা দেখা গেছে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের অনুসন্ধানে। ভোক্তাদের একজন জানান, দোকানের ওপর আস্থা রেখেই তারা কেনেন বিভিন্ন ব্র্যান্ডের শ্যাম্পু। কেনার পর ব্যবহার করে দেখেন, ত্বকে বিভিন্ন সমস্যা হচ্ছে। অথচ কেনার সময় আসল-নকল চেনার কোনো উপায় থাকে না।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, পুরান ঢাকার বংশালে বায়ান্ন বাজার তেপ্পান্ন গলি পেরিয়ে মালিটোলার পাঁচ তলা এক বাড়ির চিলেকোঠা; বাইরে থেকে দেখতে আবাসিক কক্ষ মনে হলেও ভিতরে চলছে ভেজাল কর্মযজ্ঞ। বড় প্লাস্টিকের ড্রামের ভিতর বিভিন্ন কেমিক্যাল দিয়ে ঘোল তৈরি করে শ্যাম্পুর মতো বানিয়ে বোতলজাত করা হয়। ব্র্যান্ডের লেভেল লাগিয়ে তৈরি করা হয় বিশ্বমানের শ্যাম্পু! ডাব, প্যানটিন ও হেড অ্যান্ড শোল্ডার- বিশ্বমানের এসব শ্যাম্পু আপনি যে বিশ্বাস নিয়ে ব্যবহার করছেন, সেটি আসলে তৈরি হচ্ছে ভয়ঙ্কর ক্ষতিকর কেমিক্যালে।

শ্যাম্পুর নকল ওই কারখানায় কথা হয় আবদুল্লাহ নামে এক কর্মচারীর সঙ্গে। তিনি বলেন, মহাজন কেমিক্যাল এনে দিলে সেই কেমিক্যাল পানির সঙ্গে মিশিয়ে হাত দিয়ে গুলিয়ে বোতলে ভরা হয়। আর বোতলগুলো মহাজনই কিনে আনেন বিভিন্ন স্থান থেকে। নকল শ্যাম্পুর বোতলগুলোকে আরও বিশ্বস্ত করতে সিল ও পি অ্যান্ড জি লেভেল লাগানো হয়।

চর্ম বিশেষজ্ঞ ডা. ওয়াহিদা খান চৌধুরী বলেন, ‘কসমেটিকস আমাদের ত্বকের জন্য এমনিতেই অত্যন্ত ক্ষতিকর। আর যদি তা হয় নকল কিংবা বাজে উপাদানের প্রডাক্ট, তাহলে বুঝতে হবে তার অবস্থাটা কী! কেন ময়দা দিয়ে বানানো শ্যাম্পু আমি ব্যবহার করব? নকল শ্যাম্পুর কেমিক্যালগুলো ত্বকের স্বাভাবিক গ্রোথকে নষ্ট করে দেয়।’
প্রসাধনী ব্যবহারে ভোক্তাদের আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান এই চিকিৎসক।