জুয়া খেলায় হেরে বাসায় ফিরে স্ত্রীকে হত্যা করলেন পাষাণ্ড স্বামী

জুয়া খেলায় হেরে বাসায় ফিরে স্ত্রী জোসনা বেগমকে হত্যা করছেন পাষাণ্ড স্বামী মো. মহিউদ্দিন (৩১)। এ ঘটনায় মহিউদ্দিনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার (৭ নভেম্বর) ভোরে রাজধানীর রূপনগরের দুয়ারীপাড়া এলাকার তিন নম্বর সড়কের ৪৭ নম্বর বাসায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

নিহত জোসনার স্বজনদের অভিযোগ, জুয়া খেলার টাকার জন্য প্রায়ই জোসনাকে নির্যাতন করতেন তার স্বামী মহিউদ্দিন। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) গভীর রাতে জুয়া খেলায় হেরে বাসায় ফিরে জোসনার কাছে টাকা চান তিনি। টাকা না দেওয়ায় জোসনাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর মহিউদ্দিন ঘটনাটি ‘আত্মহত্যা’ বলে নাটক সাজানোর চেষ্টা করেন। পরে মেয়েকে হত্যার অভিযোগে শনিবার (৭ নভেম্বর) রাতে নিহত জোসনার মা কোহিনুর বেগম (৫০) বাদী হয়ে রূপনগর থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর রাতেই মহিউদ্দিনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

কোহিনুর বেগম জানান, ২০১১ সালে দুই লাখ টাকা যৌতুক নিয়ে জোসনাকে বিয়ে করেন মহিউদ্দিন। তাদের সালমান (৫) এবং ওসমান (৩) নামে তাদের দুইটি সন্তান রয়েছে। রূপনগরের আনবিকশক্তি দুয়ারীপাড়ার বাসায় স্বামী ও শ্বশুর আনিছুর রহমানের সঙ্গে থাকতেন জোসনা। বিয়ের কিছু দিন পরই জোসনা জানতে পারেন তার স্বামী জুয়া খেলায় আসক্ত। যৌতুকের সব টাকাই তিনি জুয়া খেলে হেরেছেন। টাকা ফুরিয়ে গেলে ফের টাকার জন্য মহিউদ্দিন জোসনাকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করতেন। মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে মহিউদ্দিনের হাতে বিভিন্ন সময় আরও আড়াই লাখ টাকা তুলে দেন তিনি। এরপরও জুয়া খেলার টাকার জন্য মেয়ের ওপর নির্যাতন থামেনি। বিষয়টি মহিউদ্দিনের বাবাকে জানানো হলেও কোনো কাজ হয়নি। তিনি কোনো সমাধান না করে উল্টো ছেলেকে উস্কে দিতেন।

তিনি জানান, গত একমাস আগেও টাকা চেয়ে না পেয়ে বাবা-ছেলে জোসনাকে হত্যার জন্য চাপাতি নিয়ে তেড়ে আসেন। এ সময় বাসার অন্য ভাড়াটিয়াদের হস্তক্ষেপে সে যাত্রায় জোসনা রক্ষা পেলেও তার ওপর নির্যাতন থামেনি।

কোহিনুরের অভিযোগ, জুয়া খেলে বাসায় এসে গত শুক্রবার গভীর রাতে থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত জোসনাকে নির্যাতনের পর তার গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করেন মহিউদ্দিন। সকালে ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে তিনি খবর পেয়ে মেয়ের শ্বশুরের বাসায় এসে জানতে পারেন মেয়েকে মৃত অবস্থায় শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

সেখানে গিয়ে মেয়ের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান তিনি। মরদেহ দাফনের পর জোসনার স্বামী ও শ্বশুরকে আসামি করে রূপনগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন তিনি।

জুয়া খেলার টাকার জন্য মেয়ের হত্যাকারীদের ফাঁসি দাবি জানান কোহিনুর।

রূপনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বাংলানিউজকে বলেন, ‘নিহত জোসনার স্বামী মহিউদ্দিন অটোরিকশা চালাতেন ও জুয়া খেলতেন। জুয়া খেলার বিষয় নিয়ে মাঝে মধ্যেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হতো। পারিবারিক কলহ থেকে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

তিনি বলেন, স্ত্রী হত্যার অভিযোগে শনিবার রাতেই মহিউদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রোববার (৮ নভেম্বর) তাকে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলার অন্য আসামিকে তদন্ত সাপেক্ষে গ্রেফতার করা হবে।