ঢাকার গলিতে মিনা চাকমার হাহাকার – শেষ অংশ

“সোসিয়াল মেডিয়া হোক চেতনার হাতিয়ার”

মিনা আর নিজাম উদ্দীনের সংসার ১২ বৎসরে পা দিয়েছে। কিন্তু ১২টি বৎসর মিনার ১২টি যুগ বলে মনে হয়। ঢাকার গলিতে চার দেওয়ালের বন্দ্বীদশা জীবনটাকে নরক ছাড়া তার কিছু মনে হয়না। স্বামী নাক ডেকে শান্তিতে ঘুমালেও কিন্তু মিনার তো ঘুম হয়না। তার মন যে ঘুরে বেড়ায় এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড়ে। তার মনে সিনেমা দৃশ্যের মতো ভেসে উঠে খোলা পরিবেশে চেঙ্গী নদীতে স্নান করা, বিঝুর দিনে ফুল ভাসানো, রাতভর বন্দ্বুদের নিয়ে বিঝু খাওয়া, দল বেধে কঠিন চীবর দান দিনে বিহারে যাওয়া এবং পাহাড়ে অবাধ ও স্বাধীন ভাবে ঘুরে বেড়ানোর দৃশ্য। এসব ভেবে ভেবে মিনার রাত কেটে যায়।

মিনার সময় কাটেনা। মাঝে মাঝে ঘনিষ্ট চাকমা বান্দ্ববীদের সাথে কথা বলে নিজের মনটাকে হালকা করে। বান্দ্ববীরা জিজ্ঞেস করলে বলে সে বেশ সুখেই আছে। মিনার তো মুখ নেই সত্য কথাটা বান্দ্ববীদের বলার। কারণ সে যে বান্দ্ববীদের কথা শুনেনি। তাই নিজের জিৎ ধরে রাখার জন্যে সে মিথ্যা অভিনয় করে থাকে। আর এদিকে তার কথা শুনে বান্দ্ববীরা মনে করে অচিদোলখোর বিয়ে করে মিনা কতইনা সুখে আছে। কিন্তু আমাদের জুম্ম মেয়েরা কখনো তলিয়ে দেখেনা মিনার বাস্তব চিত্র।

স্বামী সারা দিন ব্যবসার কাজে বাইরে থাকে। আর মিনা বাসায় বসে বসে চাকমা বান্দ্ববীদের ফেস বুক নিজেদের ওয়ালে দেওয়া ছবিগুলো দেখে তারা স্বামীদের নিয়ে কতইনা সুখে আছে। স্বামী ছাড়াও তারা অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে খাঁচা থেকে মুক্ত পাখির মতো। এসব দেখে মিনা বাথরুমে গিয়ে চিৎকার করে কেঁদে উঠে। সে অংক মিলাতে পারেনা নিজাম উদ্দীনকে বিয়ে করে সে কি পেলো। সে ভাবতে তাকে তার জীবনটা শুধু নিজাম উদ্দীনের শয্যা সঙ্গী, তার মা – বাবা আর দুই সন্তানকে যত্ন নেওয়ার জন্যে।

এদিকে নিজাম উদ্দীন পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে। তা নিয়ে মিনা ঝগড়া করলে মিনাকে ১৪ গোষ্ঠী ব্যাঙ খোর – সাপ খোর বলে গালি দেয়। শ্বাশুরী – স্বামী মিনাকে জ্বালালেও ভয়ে তা নীরবে হজম করতে হয় যদি তালাক দিয়ে দেয়। তখন সে যে দুইকূল হারা হবে। তাছাড়া তারা জানে মিনাকে যে পাহাড়ের সমাজ আর গ্রহণ করবেনা। এভাবে ঢাকার অলি – গলিতে মিনাদের জীবন কেটে যায় আর তারা তখন শুধু মৃত্যুর অপেক্ষায় থাকে।

( দ্রষ্টব্য : জুম্ম মেয়েদের শ্রদ্ধা রেখে বলছি বিয়ের পর জীবনটা অনেক কিছুর সাথে জড়িয়ে যাই। তাই ভেবে চিনতে পা বাড়াবেন। প্রেম আর বিয়ে এক জিনিস নয়। আপনাদের জীবন ও সুখ আপনাদেরই হাতে)

Parish Chakma