তাবলিগের মাধ্যমে করোনা ছড়িয়ে পড়লো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়

মালয়েশিয়ায় এখন পর্যন্ত ৬৭৩ জন লোক কোভিড-১৯ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। যেটা দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বাধিক। গত মাসের শেষ দিকে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের শ্রী পেটালিং মসজিদ কমপ্লেক্সে তাবলিগ জামাতের তিনদিনের একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

মালয়শিয়ায় আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় ৪০০ জন তাবলিগের এই অনুষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে স্থানীয় প্রতিবেদন বলছে।

তাবলিগ জামাতের এই অনুষ্ঠান থেকে অনেক লোক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এতে প্রায় দুই লাখ লোক অংশ নিয়েছিলেন। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে পহেলা মার্চ পর্যন্ত তাবলিগের ওই কর্মসূচিতে মালয়েশিয়ার নাগরিকসহ বিভিন্ন দেশের মানুষ অংশ নিয়েছিলেন।

মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী দাতুক সেরি ডা. আদম বাবা বলেন, মঙ্গলবার ৩৪ বছর বয়সী মারা যাওয়া ব্যক্তি তাবলিগের ওই অনুষ্ঠানে ছিলেন।

তিনি বলেন, ২৭ ফেব্রুয়ারী থেকে ১ মার্চ পর্যন্ত চার দিন ধরে চলা সেই অনুষ্ঠানে ১৬ হাজার মানুষ জড়ো হয়েছিল যাদের মধ্যে এক হাজার ৫০০ জন বিদেশি। কিন্তু কার মাধ্যমে ভাইরাসটি ছড়িয়ে সেটা জানা যায়নি।

রয়টার্স সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছয় জনের সাথে কথা বলে, সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্ট ও বিভিন্ন ছবি দেখ নিশ্চিত করে যে এখান থেকে নানাভাবে ভাইরাস ছড়াতে পারে।

এই অনুষ্ঠানের আয়োজক তাবলিগ জামাত এরপর মালয়েশিয়ায় তাদের কার্যক্রম সোমবার থেকে বন্ধ করে দেয়। তবে এই অনুষ্ঠান নিয়ে কোন মন্তব্য করেনি।

মঙ্গলবার সেই মসজিদটি বন্ধ করে দেয়ার সময় একজন জানান, তিনিসহ বেশ কয়েকজন মুসল্লি মসজিদে কোয়ারেন্টাইনে আছেন।

মালয়েশিয়ায় দুই সপ্তাহের জন্য সকল মসজিদ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। করোনা প্রতিরোধে সেখানকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ দেশটির সীমান্তও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মহিউদ্দিন ইয়াসিন বলেন, পরিস্থিতি অবনতির অপেক্ষা না করেই সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে। কোভিড-১৯ ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে সরকারকে অবশ্যই কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

ব্রুনেইয়ে ৫০ জন, সিঙ্গাপুরে পাঁচজন, কম্বোডিয়ায় ১৩ জন ও থাইল্যান্ডে অন্তত দুইজনের শরীরে করোনাভাইরাস পাওয়া গেছে যারা এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিল।

এছাড়া ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন এবং ইন্দোনেশিয়ায় প্রায় ৭০০ নাগরিক সেখানে উপস্থিত ছিল। যাদের সবাইকে খোঁজা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, কানাডা, নাইজেরিয়া, অস্ট্রেলিয়াসহ বহু দেশের নাগরিক উপস্থিত ছিলেন। আলজাজিরা ও স্ট্রেইট টাইমস।