নিজে দাঁড়িয়ে থেকে বন্ধুকে দিয়ে স্ত্রীকে ধর্ষণ করাল স্বামী

বগুড়া শ’হরের চকলোকমান এলাকায় দিনের বে’লায় ২৪ বছর ব’য়স্ক এক না’রীকে ধ’র্ষণের পর মা’থার চু’ল কে’টে গা’য়ে আ’গুন দি’য়ে হ’ত্যার চে’ষ্টা করা হয়েছে। ভা’গ্যক্রমে বেঁ’চে যাওয়া ওই না’রীর চি’ৎকারে আশপাশের মা’নুষ ছু’টে এসে তাকে উ’দ্ধার করে বগুড়া শ’হীদ জিয়াউর রহমান মে’ডিকেল ক’লেজ হা’সপাতালে ভ’র্তি করে। হা’সপাতালে চি’কিৎসারত ওই না’রী জানিয়েছেন, ঘটনার স’ঙ্গে জ’ড়িত তার স্বা’মী এবং স্বা’মীর এক ব’ন্ধু। ঘটনার পর থেকে তারা দুইজনই প’লাতক রয়েছে।

বগুড়ার পু’লিশ সু’পার আলী আশরাফ ভুঞা ঘটনার সত্যতা স্বী’কার করে বলেন, নি’র্যাতিত না’রীর ভাষ্য অনুসারে তার স্বা’মী এবং স্বা’মীর বন্ধু’কে গ্রে’ফতার করতে পু’লিশের একাধিক টিম মাঠে নামানো হয়েছে। একই স’ঙ্গে হা’সপাতালে চি’কিৎসাধীন ওই না’রীর দেখভালের জন্য পু’লিশ মো’তায়েন করা হয়েছে। বগুড়া শ’হীদ জিয়াউর রহমান মে’ডিকেল ক’লেজ হাস’পাতালের ২য় তলায় গাইনী ও’য়ার্ডের ইউনিট-১ এর ১২ নং বেডে চি’কিৎসাধীন ওই না’রীর সাথে কথা বলতে গেলে তিনি শুধু কা’তরাতে থাকেন। দেখা যায় তার পি’ঠের একপাশ থেকে কো’ম’রের নিচের অংশ পু’ড়ে গি’য়ে বড় বড় ফো’সকা প’ড়ে গেছে।

কা’ন্নাজ’ড়িত কণ্ঠে তিনি জানালেন, ২০১০ সালে বগুড়ার গাবতলী উপজে’লার বালিয়াদীঘি গ্রামের তোজাম্মেল হকের ছে’লে রফিকুল ইসলামের সঙ্গে’ তার বি’য়ে হয়। তারা বগুড়ার শাজাহানপুর উপজে’লার চকলোকমান খন্দকারপাড়া এলাকায় একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতো। এ বাসার অদূরেই মে’য়েটির বাবার বাড়ি। তাদের ৭ বছরের একটি ক’ন্যা স’ন্তান রয়েছে। রফিকুল আগে হানিফ এন্টারপ্রাইজ নামের একটি কোচে সুপারভাইজারের কাজ করতো। মাঝে সেই চাকরি ছে’ড়ে দিয়ে মা’দকাস’ক্ত হয়ে প’ড়ে।

২ বছর আগে হঠাৎ করেই মোবাইলে একটি মে’য়ের স’ঙ্গে কথা বলার সময় সে স্বা’মীকে হা’তেনাতে ধ’রে ফে’লে। এরপর জানতে পারে মে’য়েটির স’ঙ্গে তার স্বা’মীর প’রকীয়ার স’ম্পর্ক রয়েছে। এ নিয়ে স্বা’মী-স্ত্রী’র মাঝে দ্ব’ন্দ্ব দেখা দেয়। রফিকুল প্রায়ই এ বি’ষয়টি নিয়ে তাকে মা’রপি’ট করতো।

সর্বশেষ গত ৬ জানুয়ারি একই বি’ষয় নিয়ে ক’থাকা’টাকা’টির এক পর্যায়ে স্ত্রী’কে বে’দম মা’রপিট করে রফিকুল। তাকে স’ন্তানসহ বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়। পরে প্র’তিবেশী ও আ’ত্মীয়-স্ব’জনরা মিলে আলোচনা করে গত ২৮ জানুয়ারি পুনরায় রফিকুলের কাছে স্ত্রী স’ন্তানকে রেখে আসে। কিন্তু ২৭ জানুয়ারি আবারও একই বি’ষয় নিয়ে স্ত্রী’কে মা’রপিট করে রফিকুল। এরপর বাড়ি থেকে বে’র হয়ে আর ফি’রে আ’সেনি সে। সর্বশেষ গত রোববার দুপুর ১২টার দিকে বাড়ির প্রাচীর টপকে রফিকুল তার এক ব’ন্ধুকে নিয়ে ওই বাড়িতে প্রবেশ করে। এ সময় তাদের মে’য়ে পাশেই নানা বাড়িতে বে’ড়াতে গিয়েছিল। রফিকুল বাড়ির মধ্যে প্র’বেশ করেই প্রথমে তার স্ত্রী’র হা’ত ও মু’খ বেঁ’ধে ফে’লে। এরপর ঘ’রে টে’নে নি’য়ে গিয়ে নি’জে দাঁ’ড়িয়ে থেকে ব’ন্ধুকে দি’য়ে ধ’র্ষণ ক’রায়।

এরপর তারা গ’লায়, বু’কে ও মা’থার চু’লের একপাশ কে’টে দিয়ে গা’য়ে জ’ড়ানো শাড়িতে তরল কিছু একটা ঢে’লে দেয়। এরপর ম্যাচ আ’গুন দি’য়ে তার স্বা’মী ও তার ব’ন্ধু পা’লিয়ে যায়। এসময় তার চি’ৎকারে আশপাশের বাড়ির লো’কজন গেট ভে’ঙে বা’ড়িতে ঢু’কে ম’র্মান্তিক এ দৃ’শ্য দেখতে পায়। তারা গু’রুতর অবস্থায় তাকে বগুড়া শ’হীদ জিয়াউর রহমান মে’ডিকেল ক’লেজ হা’সপাতালে নিয়ে যায়।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ওই না’রীর বাবা আলম মন্ডল জানান, তিনি দিনমজুর। কি’শোর ব’য়সেই মে’য়েকে বি’য়ে দিয়েছিলেন। এখন তার মে’য়েকে হ’ত্যা করার চে’ষ্টা করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনার জন্য মে’য়ে জামাই রফিকুল এবং তার ব’ন্ধুর বি’চার দা’বি করেন।

এ ঘটনায় শাজাহানপুর থানা পু’লিশের ওসি আজিমুদ্দিন জানান, এ ব্যাপারে ত’দন্ত চলছে। মা’মলা দা’য়ের করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বগুড়া শ’হীদ জিয়াউর রহমান মে’ডিকেল ক’লেজ হা’সপাতালের গা’ইনি বিভাগের দা’য়িত্বরত চি’কিৎসক ডা. তাহমিনা আক্তার বলেন, রো’গীর শ’রীরের বেশ কিছু অংশ পু’ড়ে গে’ছে। একই স’ঙ্গে শ’রীরে আ’ঘাতের চি’হ্নও রয়েছে। এখন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। ধ’র্ষণের বি’ষয়টি মে’ডিকেল চে’কআপের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।