পরিচালকরা বাধ্য করতেন: মুনমুন

ঢাকাই চলচ্চিত্রে এক সময় দাপট দেখিয়ে অভিনয় করে গেছেন মুনমুন। সেই সময় মৌসুমি-শাবনূরের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে একের পর এক ছবিতে অভিনয় করেছেন এই অভিনেত্রি।

কিন্তু এক সময় অশ্লিল নায়িকা ময়ূরীর সঙ্গে মুনমুনের নামটা জুড়ে যায়। যেটা নিয়ে ক্ষুব্ধ মুনমুন। তাঁর মতে,‘ ময়ূরীর সাথে আমার নামটা জুড়ে দিয়ে একইসাথে দুজনকে অশ্লীল নায়িকা হিসেবে কথা বলেন সকলে। আমার দুঃখের জায়গা হলো এটা যে আমাকে অশ্লীল নায়িকা হিসেবে অভিযুক্ত করেন।

যার কারণে আমাকে ফিল্ম ছেড়ে দিতে হয়েছে, পরিবার ছেড়ে দিতে হয়েছে। দ্বিতীয়বার আমি সিনেমায় ফিরতে চেয়েছি আমাকে ফিরতে দেওয়া হয়নি। আমি টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করতে চেয়েছি আমাকে কেউ নেয়নি। বাধ্য হয়ে আমি সার্কাসে যোগ দিয়েছি। এখন সার্কাস আমার প্রধান পেশা, ভালোবাসা।’

ছবিতে লগ্নি করেন প্রযোজক। তাঁর মাথায় চিন্তা থাকে কিভাবে এই ছবি থেকে লভ্যাংশ তুলে নেওয়া যায়। আর সেটা করতে গিয়ে নব্বই দশকের শেষের দিকে গোটা চলচ্চিত্র অশ্লিলতায় ভেসে যায়। প্রযোজক-পরিচালকরা অনেকটা বাধ্য করাতেন নায়িকাদের ছোট পোশাক পড়তে।

সেটা অকপটে স্বীকার করে মুনমুন বলে গেলেন,‘ আমাদেরকে পরিচালক-প্রযোজকরা জোর করাতো সংক্ষিপ্ত পোশাক পরানোর জন্য। আমরা তো বাসা থেকে কাপড় নিয়ে যাই না। ওরা যেটা পরতে বলতো সেটাই পরতে হতো। এক সময়ে এভাবে না চলতে পেরে চলে আসি। ২০০৩ সাল আমার চলচ্চিত্রের শেষ বছর। এরপর আমি বিয়ে করে ইংল্যান্ড চলে যাই। যে দৃশ্যে অভিনয় করিনি সে দৃশ্যেও আমার মাথা কেটে লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভেবে দেখলাম, সম্মান থাকতেই কেটে পড়া উচিত।’

এটা ঠিক যে সেই সময় মুনমুনের চাহিদা ছিল প্রযোজকদের কাছে। মুনমুন আছেন এমন ছবি দেখতে এক শ্রেণির দর্শক হুমড়ি খেয়ে পড়তেন। আর তারা অবশ্যই আশা করতেন মুনমুন আবেদনময়ী হয়ে কোনও গানে নাচবেন।

যদিও মুনমুন কিন্তু নিজেকে বড় তারকা বলেই নিজেকে দাবি করেন, আই ওয়াজ অ্যা সুপারস্টার, আমি কেন অশ্লীল চলচ্চিত্রে অভিনয় করব? আমি যখন চলচ্চিত্রে অভিনয় করতাম তখন ছিলাম আনবিটেবল। অপ্রতিদ্বন্দ্বী। আমি বেশিরভাগ ছবিতে লেডি অ্যাকশন চরিত্রে কাজ করেছি তখন আমাকে পেছনে ফেলার কেউ নেই। প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে কয়েকজন সাংবাদিক অশ্লীল নায়িকা তকমা জুড়ে দিয়েছে। কিন্তু কেউ প্রমাণ দেখাতে পারবে না। আমাদের ভালো ছবিতে ঢুকিয়ে দেওয়া হতো কাটপিস।’

মুনমুন ১৯৯৬ সালে ‘ও’ লেভেল অধ্যয়নকালীন মৌমাছি সিনেমার মাধ্যমে ঢাকাই ছবিতে অভিষিক্ত হন। এতে তিনি পার্শ্বনায়িকা চরিত্রে অভিনয় করেন। ছবিতে মূল নায়িকা ছিলেন শাবনূর। ‘টারজান কন্যা’ নামের ছবির মাধ্যমে প্রধান নায়িকা হিসেবে অভিষিক্ত হন। এরপর রানি কেন ডাকাত, মৃত্যুর মুখে, মরণকামড়সহ অসংখ্য ব্যবসাসফল ছবি করেছেন।

সেই মুনমুন এখন সার্কাস নিয়ে আছেন। ছবি নেই। তাই এটাকেই পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন মুনমুন,‘ আমি সার্কাসকে ভালোবাসি। আগামী ২৯ আগস্ট থেকে তোলপাড় ছবির শুটিং শুরু হবে। সেটার শুটিংয়ে অংশ নেব।

মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে দুই রাজকন্যা, পদ্মার প্রেম ও রাগী। রাগী ছবিটি নিয়ে আমার এক্সপেক্টেশন বেশি। যদি ভালো হয় তাহলে চলচ্চিত্রে কন্টিনিউ করবো। আর চলচ্চিত্র নিয়ে আমার খুব বেশি মাথা ব্যাথা নেই। আমি আগে সেই শুরুতে সাইনিং মানি নিতাম ২-৩ লাখ টাকা। এখন তো পেমেন্টেরই ঠিক ঠিকানা নেই। তাই সার্কাস কেন্দ্রিক চিন্তাভাবনাই আমার কাছে মুখ্য।’

ঢাকার উত্তরাতে সালাম ও সালমান নামের দুই সন্তানকে নিয়ে সুখের বসবাস মুনমুনের। পারিবারিক জীবনে নিজেকে সুখী উল্লেখ করে মুনমুন বলেন, ‘আমি অনেক হ্যাপি। আমার দুই সন্তান, মা আর স্বামীকে নিয়ে সুখেই আছি। বড় ছেলে রাজধানীর একটি স্কুলে স্ট্যান্ডার্ড সেভেনে পড়েন, ছোট ছেলে শিবরাম কেজি টু-তে পড়েন। স্বামী মীর মোশাররফ হোসেন ব্যবসার সাথে যুক্ত।’