পার্বত্য এলাকায় সরকার আদিবাসীদের উপর দমন পীড়ন চালাচ্ছে : উষাতন তালুকদার

আর্ন্তজাতিক নারী দিবস উপলক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম মহিলা সমিতি এবং হিল উইমেনস ফেডারেশন এর যৌথ উদ্যোগে রাঙামাটি জেলা শিল্পকলা একাডেমি হল রুমে এক আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়েছে।

রাঙামাটি সদর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়াম্যান শ্রীমতি রিতা চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অথিতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টিআইবি’র ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য এডভোকেট সুস্মিতা চাকমা। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার, আদিবাসী ফোরামের সভাপতি প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা, এমএন. লারমা মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের সভাপতি বিজয় কেতন চাকমা, জেএসএস এর স্টাফ সদস্য আশিকা চাকমা, জেলা যুব সমিতির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক নান্টু ত্রিপুরা, জেলা পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জগদীশ চাকমা, এবং সভা সঞ্চালনা করেন রিনা চাকমা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সুস্মিতা চাকমা বলেন,‘ইউএন ওমেন’- এর এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, সারাবিশ্বে বর্তমানে ৭৪ কোটি নারী অপ্রাতিষ্ঠানিক অর্থনৈতিক জীবনধারায় বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছে, যাদের সামাজিক নিরাপত্তা, সরকারি সেবা ও অবকাঠামোর সুবিধা লাভে কোন সুযোগ নেই বললেই চলে। নারীরা পুরুষের তুলনায় ২.৬ গুণ বেশি অবৈতনিক ও গৃহস্থালি কাজ করে থাকে। বিশ্বে মাত্র ৪১ শতাংশ প্রসূতি তাদের নবজাতসহ মাতৃকালীন সুবিধা পেয়ে থাকে। বাকি ৫৯ শতাংশ প্রসূতি নারী মাতৃকালীন সুবিধা থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত। তিনজন নারীর মধ্যে অন্তত একজন নারী তাদের জীবনে সহিংসতার শিকার হয়ে থাকে। ২০৩০ সালের মধ্যে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে লিঙ্গ সমতা অর্জন এবং সকল নারী ও কন্যাশিশুর ক্ষমতায়ন সংক্রান্ত ৫নং লক্ষ্য পরিপূরণের ক্ষেত্রে দরকার গুণগত পরিবর্তন, সমন্বিত উদ্যোগ ও নতুন সমাধান। এমতাবস্থায় ‘ইউএন ওমেন’ এ বছর বিশ্বব্যাপী লিঙ্গ সমতা ও নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে এই প্রতিপাদ্য বিষয়টি তুলে ধরেছে।

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি জনসংহতি সমিতির সহ সভাপতি ঊষাতন তালুকদার বলেন,পার্বত্য এলাকার মানুষ শান্তিপ্রিয় এবং সহজ সরল। এখানে রাজনৈতিক ভাবে সরকার পাহাড়ীদের দমন- পীড়ন করছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। উল্টো চুক্তি বিরোধী কাজ করা হচ্ছে। অবহেলার মাত্রা চরম পর্যায়ে পৌছে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে যে কোন অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তার জন্য সরকার দায়ী থাকবে। তিনি আহবান জানান আসুন সবাই মিলে শান্তি প্রতিষ্ঠা করি।

সভায় বক্তারা বলেন, সারা বিশ্বে নারীদের উপর সহিংসতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সারা বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশের নারী সমাজও বঞ্চিত হচ্ছে। নারীদের অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ভাবে অবহেলা করা হচ্ছে। ধর্মীয় দোহায় দিয়ে নারী সমাজকে পিছনে রাখা হচ্ছে। অথচ নারী ছাড়া এই বিশ্বে কোন অগ্রগতি সম্ভব না।বক্তারা আরো বলেন, যে কোন কিছুর বিনিময়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন করা হবে।