বিএসএফের বাধায় বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ

ভারত-বাংলাদেশ উভয় দেশের সিএন্ডএফ এজেন্টদের আমদানি-রপ্তানি কাজে যাতায়াতে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) বাধা দেওয়ায় দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল-পেট্রাপোল দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বন্ধের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীসহ বন্দর ব্যবহারকারীরা।

আজ মঙ্গলবার সকালে মালামাল আমদানি-রপ্তানি জন্য কাগজপত্র নিয়ে পেট্রাপোল বন্দরে প্রবেশ করতে গেলে হঠাৎ বিএসএফের বাধার মুখে পড়ে সিএন্ডএফ কর্মচারীরা ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে প্রবেশ করতে পারেননি।

এর ফলে ভারত থেকে নতুন কোনো আমদানি পণ্য নিয়ে ভারতীয় কোনো ট্রাক প্রবেশ করেনি। তবে আগের দিনের যে সব পণ্যের আইজিএম করা ছিল সেসব পণ্য নিয়ে ট্রাকগুলো বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করেছে। দুপুরের পর থেকে বেনাপোল বন্দরে ভারতের ট্রাক প্রবেশ বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে উভয় দেশে প্রবেশের অপেক্ষায় পণ্য বোঝাই কয়েক শ ট্রাক আটকা পড়েছে। এর মধ্যে পঁচনশীল পণ্যও রয়েছে।

বেনাপোল চেকপোস্টে কর্মরত সিএন্ডএফ এজেন্ট শান্তা এন্টার প্রাইজের প্রতিনিধি মহসিন আলী ও জয়েন্ট স্টারের প্রতিনিধি জাহান আলী বলেন, আমরা সকালে কাগজপত্র নিয়ে ভারতে প্রবেশ করতে চাইলে বিএসএফ বাধা দেয়। তারা বলেন- এভাবে প্রবেশ করা যাবে না। পাসপোর্ট নিয়ে প্রবেশ করতে হবে। তারা বলেন, আমরা ভারতে এবং ভারতের সিএন্ডএফ ব্যবসায়ীরা যদি কাগজপত্র আদান প্রদান করতে না পারি তবে ব্যবসা বাণিজ্য মুখ থুবড়ে পড়বে। এই কাগজ পত্র পেয়ে উভয় দেশে আইজিএম খোলা হয় তারপর মালামাল দুই দেশে প্রবেশ করে।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের বন্দর বিষয়ক সম্পাদক আওয়াল হোসেন বলেন, বাণিজ্যিক সুবিধার্থে দুই পাশের সিঅ্যান্ডএফ স্টাফরা কাগজপত্র প্রস্তুত করতে বেনাপোল ও পেট্রাপোল বন্দরে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের দেওয়া পরিচয় পত্রের মাধ্যমে যাতায়াত করে থাকেন। কিন্তু হঠাৎ করে ভারতীয় বিএসএফ সদস্যরা স্টাফদের বন্দরে যাতায়াতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এতে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

বেনাপোল বন্দরের উপ-পরিচালক (ট্রাফিক) আব্দুল জলিল বলেন, কোনো আলোচনা ছাড়াই বিএসএফের এমন সিদ্ধান্ত বেআইনি। এতে বাণিজ্য বন্ধ রয়েছে। পেট্রাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বাণিজ্য সচল করার চেষ্টা করছি।

বেনাপোল কাস্টমসের সহকারী কমিশনার উত্তম চাকমা জানান, সিএন্ডএফ এজেন্ট কর্মচারীরা যাতে দ্রুত ভারতে প্রবেশ করতে পারে সেই চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, সে দেশে আমেরিকান প্রেসিডেন্ট সফরের কারণে সীমান্ত জুড়ে কঠোর নজরদারীর ফলে বাংলাদেশ থেকে কোনো সিএন্ডএফ কর্মচারীকে ভারতে ঢুকতে দিচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে উভয় দেশের কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে আমদানি-রপ্তানি সচল করার চেষ্টা চলছে।