মধুপুরে স্থানীয় নেতা কর্তৃক গারো যুবক নির্যাতনের শিকার

মধুপুরের ভূটিয়া গ্রামে স্থানীয় আওয়ামীলীগ ৭নং ওয়ার্ড সেক্রেটারি আনিসুর রহমান ও তার দুই সহোদর আমান আলী ও রুবেল কর্তৃক নিশিকান্ত রেমা নামে এক গারো যুবক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত ৫ জুন সন্ধ্যা ৭ ঘটিকার সময়। এ নিয়ে এলাকায় গারো জনগোষ্ঠীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে বলে জানা গেছে।

ঘটনার দিন সন্ধ্যায় ওয়ার্ড সেক্রেটারি আনিসুর রহমান নিশিকান্ত রেমাকে ভূটিয়া বাজারের নিজ ফার্মেসী দোকানে ডেকে পাঠান। দোকানে গিয়ে নিশিকান্ত রেমা দেখতে পান ভেতরে কয়েকজন আওয়ামীলীগ কর্মী বসে আছে। তিনি নিজেও ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সদস্য। দোকানের ভেতর ঢুকতে গেলে সে সময় তাকে বাঁধা দেওয়া হয়। সেন্ডেল খুলে ভেতরে ঢুকতে বলা হয়। নিশিকান্ত রেমা লক্ষ্য করেন, যারা ভেতরে বসে আছে প্রত্যেকেই সেন্ডেল পরে আছে। এ সময় তাকে কেন সেন্ডেল খুলে ঢুকতে বলা হচ্ছে জিজ্ঞেস করে ভেতরে ঢুকতে গেলে নিশিকান্ত রেমাকে দোকান থেকে বের করে দেওয়া হয়।

এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে বাক-বিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে কিছু বোঝে ওঠার আগেই আনিসুর রহমান কাঠ দিয়ে নিশিকান্ত রেমাকে এলোপাতাড়ি মারতে শুরু করে। দেখাদেখি উপস্থিত থাকা আনিসুর রহমানের বড় ভাই আমান আলী ও ছোট ভাই রুবেলও কাঠ দিয়ে মারতে শুরু করে। এ সময় চিৎকার চেঁচামেচি শুনে এলাকাবাসীরা এসে নিশিকান্ত রেমাকে উদ্ধার করেন বলে এলাকাবাসীরা জানান। এতে নিশিকান্ত রেমা শারীরিকভাবে মারাত্মক জখম হন। তাকে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। গত ৯ জুন হাসপাতাল থেকে তিনি ছাড়া পান। জানা গেছে, শারীরিকভাবে নিশিকান্ত রেমা এখনও পুরোপুরি সুস্থ নন।

এ ঘটনায় এলাকাবাসীরা অভিযোগ করেছেন ইতোপূর্বেও এই নেতা নামধারী ও সংখ্যালঘু ক্ষুদ্র জাতিসত্তা বিদ্বেষী আনিসুর রহমান আরও একাধিকবার গারোদের ওপর নির্যাতন করেছে এবং সেসব ঘটনার বিরুদ্ধে সালিশি চেয়ে গারোরা কোনবারেই বিচার পান নি। এ বিচারহীনতার কারণেই আনিসুর রহমানের হিংস্রতা বেপরোয়া হয়ে ওঠছে। ক্রমিক হারে একের পর এক গারোদের নির্যাতন করে যাচ্ছে। এ ছাড়াও তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে ভিজিএফ, প্রতিবন্ধী ভাতা, সরকারি তহবিলের ত্রাণ ও অন্যান্য সহযোগিতার অর্থ ও রেশনের চাল আত্মসাৎ করার অভিযোগ আছে বলে এলাকাবাসীরা জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় এলাকাবাসীদের গণস্বাক্ষরীত অভিযোগ পত্র সহ আনিসুর রহমানকে স্থানীয় ওয়ার্ড কমিটির সেক্রেটারি পদ ও দল থেকে স্থায়ী বহিষ্কার সহ সুস্থ তদন্ত সাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবীতে সংসদ সদস্য ও কৃষি মন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক ভোলার কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।