মরুভূমির খেজুর দেশে চাষ করে বাদল এখন কোটিপতি

আজওয়া, মরিয়ম, আনবারা, ম্যাটজেল, বাহরি, খালাস, সাফাওয়িসহ আরবের বাহারি রকমের খেজুর চাষ হচ্ছে এখন গাজীপুরে।
‘সৌদি ডেট পাম ট্রিস ইন বাংলাদেশ’নামে গাজীপুর সদর উপজেলায় নিজ জমিতে ব্যক্তি উদ্যোগে খেজুরের আবাদ করছেন নজরুল ইসলাম বাদল। মরুভূমির খেজুর চাষ করে বাদল এখন কোটিপতি

উপজেলার পিরুজালী আলীমপাড়া গ্রামে মরুভূমির ফল খেজুর চাষ করে এখন তা রফতানির স্বপ্ন দেখছেন তিনি। খেজুর চাষের পাশাপাশি খেজুর চারার নার্সারিও গড়ে তুলেছেন নজরুল।

খেজুর আবাদে সফলতা দেখে দেশের বিভিন্ন জেলার আগ্রহী চাষিরাও তার কাছ থেকে অভিজ্ঞতা নিয়ে খেজুর চাষের স্বপ্ন দেখছেন।

২০১৫ সালে সৌদি প্রবাসী এক বন্ধুর সহযোগিতায় খেজুরের চাষ ও নার্সারি করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন তিনি। মরুভূমির খেজুর এদেশে ফলানো সম্ভব কিনা অনেক ভাবনা চিন্তা মাথায় রেখে প্রবাসী ওই বন্ধুর সহযোগিতায় বিশ্বের ছয়টি দেশ থেকে খেজুরের বীজ ও চারা সংগ্রহ করেন তিনি।

প্রথমে ৭০ শতক জমিতে সৌদি আরবের খেজুরের জাত নিয়ে বাগান শুরু করেন। ২০১৭ সালে প্রথম তার বাগানে ফলন আসতে শুরু করে। পাশাপাশি নার্সারিও গড়ে তোলেন। সেই বছরই তার বাগান থেকে ৬২ লাখ টাকার চারা বিক্রি করেন। বর্তমানে তার বাগানে ১৬ প্রজাতির খেজুর গাছ রয়েছে।

চাষি নজরুল ইসলাম জানান, বছর তিনেক আগে পরীক্ষামূলকভাবে বিভিন্ন জাতের ১১টি গাছ রোপণ করেছিলেন তিনি। এ বছর ওই গাছগুলোতে খেজুরের বাম্পার ফলন এসেছে।

তার বাগানে রয়েছে – আজওয়া, মরিয়ম, আনবারা, ম্যাটজেল, বাহরি, খালাস, সাফাওয়ি। শিগগিরই তিনি দেশের বাইরেও খেজুর রফতানি করতে পারবেন বলে প্রত্যাশা করছেন।

টিস্যু, কলম ও সরাসরি বীজ থেকে উৎপাদিত চারা রয়েছে তার কাছে। টিস্যু ও কলম চারা থেকে দুই থেকে তিন বছরে ফলন পাওয়া যায়। একটি টিস্যু চারা আট থেকে ১০ হাজার, কলম চারা ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা এবং বীজের চারা ৮০০ থেকে হাজার টাকায় বিক্রি হয়। একটি পূর্ণাঙ্গ গাছে ২৫০ থেকে ৩০০ কেজি খেজুর হয়।

পিরুজালী মাস্টারপাড়া এলাকার চাষি মো. শামীম বলেন, নজরুল ইসলাম বাদলের কাছ থেকে চারা নিয়ে খেজুর বাগান করেছি। তিনি সৌদি খেজুরের জাত সংগ্রহ করে বাগান করেন। এদেশে উৎপাদিত খেজুরের স্বাদ, গন্ধ, বৈশিষ্ট্য সবই সৌদি আরবের খেজুরের জাতের মতোই।

গাজীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো. মাহবুব আলম বলেন, বাংলাদেশে সৌদি আরবের খেজুর চাষ একটি সম্ভাবনাময় খাত।