মারতে মারতে জাতীয় সংগীত গাইতে বাধ্য করল দিল্লি পুলিশ

ভারতের দিল্লিতে সাম্প্রদায়িক অরাজগতা চলাকালীন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে একটি ভিডিও। তাকে দেখা যাচ্ছে, আধমরা অবস্থায় সড়কে পড়ে থাকা পাঁচ যুবকের ওপর নৃশংস নির্যাতন চালাচ্ছে পুলিশ। তাদের জোর করে ভারতীয় জাতীয় সংগীত গাওয়ানো হচ্ছে। না গাইলে চুলের মুঠি ধরে সড়কে মাথাও ঠুকে দেয়া হচ্ছে। জানতে চাওয়া হচ্ছে, ‘আর আজাদি চাই!’ নৃশংস নির্যাতনের শিকার সেই পাঁচ যুবকের মধ্যে একজন মারা গেছে।

ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজারের খবরে বলা হয়েছে, নিহত ওই যুবকের নাম ফয়জান (২৪)। উত্তর-পূর্ব দিল্লির কর্দমপুরীর বাসিন্দা তিনি। বৃহস্পতিবার লোক নায়ক জয়প্রকাশ হাসপাতালে মৃত্যু হয় তার। হাসপাতালের চিকিৎসক কিশোর সিংহ বলেন, ‘মঙ্গলবার নিউরোসার্জারি ওয়ার্ডে ওই যুবককে ভর্তি করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে তার মৃত্যু হয়। ওর শরীরে গুলি লাগে। অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক ছিল।’

ভিডিওতে ফুটপাতের পাশে নীল জামা পরা এক যুবককে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। তিনিই ফয়জান। ওই হাসপাতালের মর্গে তার দেহ রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর তার পরিবারের হাতে তুলে দেয়া হবে মরদেহ।

ওই ভিডিওতে কৌসর আলি নামের এক চিত্রশিল্পীও রয়েছেন বলে খবরে বলা হয়েছে। তার ছেলে তারিক আলি সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘সোমবার বাবা ইন্ডিয়া গেট থেকে কর্দমপুরীর বাড়িতে ফিরছিলেন। রাত ১০টা নাগাদ একটা ফোন আসে। বলা হয়, আহত অবস্থায় গুরু তেগ বাহাদুর হাসপাতালে ভর্তি বাবা। তার পর ফেসবুকে ওই ভিডিওতে বাবাকে দেখতে পাই।’