মুঠোফোনেও ছড়াতে পারে করোনা ভাইরাস!

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস সম্পর্কে নতুন সতর্কবার্তা দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তারা বলেছেন, মুঠোফোনের স্ক্রিনের মতো কঠিন পদার্থও এই ভাইরাস সংক্রমণের সম্ভাব্য একটি মাধ্যম।

সম্প্রতি যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদ সংস্থা ডেইলি মেইল বিজ্ঞানীদের বরাতে জানিয়েছে, যদি কোনোভাবে প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের জীবাণু মুঠোফোনের স্ক্রিনের মতো কঠিন পদার্থের সংস্পর্শে আসে তবে টানা এক সপ্তাহ জুড়ে এই ভাইরাসের জীবাণু সেখানে স্থায়ী হতে পারে।

সর্দি-কাশির মাধ্যমে হাতল ও মুঠোফোনের মতো কঠিন পদার্থে সহজেই করোনার জীবাণু ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে দাবি বিজ্ঞানীদের। যা পরবর্তী এক সপ্তাহব্যাপী সেখানে স্থায়ী হতে পারে।

ফলে করোনা ভাইরাস এখন আর শুধু মানব শরীরে নয়, সুপ্ত অবস্থায় প্রাণঘাতী এই ভাইরাস থেকে যেতে পারে মুঠোফোনের স্ক্রিনের মতো কঠিন পদার্থের সঙ্গেও।

নতুন এই তথ্য দিয়ে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের বিস্তারে মুঠোফোন পেট্রি ডিশ (ল্যাবরেটরিতে ব্যবহৃত এক ধরনের ছোট ও গোলাকার স্বচ্ছ পাত্র) হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে। কাজেই অন্তত দিনে দুইবার অ্যালকোহল মিশ্রিত টিস্যু দিয়ে মুঠোফোনের স্ক্রিন পরিষ্কার করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

এ প্রসঙ্গে ইংল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব সাউথহ্যাম্পটনের অধ্যাপক উইলিয়াম কেভিল দেশটির সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, ‘আপনি হাত ধুয়ে নিলেন ঠিকই, কিন্তু যখন স্মার্টফোন নিয়ে নাড়াচাড়া শুরু করলেন এবং মুখে হাত নিলেন, তখনই আপনার শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে এই ভাইরাস।’

এ কারণে দিনে অন্তত দুইবার নিজের মুঠোফোন জীবাণুমুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছেন ইউনিভার্সিটি অব ওয়াটারলুর অধ্যাপক পেটার হল। তার দাবি- অন্তত দুপুরে খাওয়ার সময় এবং চা পান করার সময় মুঠোফোন পরিষ্কার করা উচিত।

এ দিকে, বিশেষজ্ঞদের মতে প্রাণঘাতী এমন ভাইরাস ধ্বংসের জন্য অ্যালকোহল মিশ্রিত টিস্যু (অ্যালকোহল ওয়াইপস) অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখে।

তবে এ ক্ষেত্রে ভিন্ন মত দিয়েছে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপল। তারা বলছে, মুঠোফোনের স্ক্রিনকে জীবাণুমুক্ত করতে মাইক্রোফাইবার ক্লথ (এক ধরনের তোয়ালে) এবং সোপি ওয়াটার (সাবান পানি) ব্যবহার করা উচিত।

আরও পড়ুন : সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিতে পারে ইতালি

উল্লেখ্য, চীনসহ এখন পর্যন্ত বিশ্বে প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের গ্রাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২০২ জনে। বিশ্বের ৭০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলে ইতোমধ্যেই প্রায় ৯২ হাজার মানুষ এ ভাইরাসে আক্রান্ত। যার মধ্যে শুধু চীনের হুবেই প্রদেশেই অধিকাংশ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (৪ মার্চ) নতুন করে আরও ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে।