দিল্লির দাঙ্গা: ছয় মুসলিমের প্রাণ বাঁচিয়ে মৃত্যুমুখে প্রেমকান্ত

দিল্লিতে হিংসা কিছুটা হলেও থেমেছে৷ কিন্তু এই ক’দিনের মধ্যে উত্তর পূর্ব দিল্লির চেহারা যেন পালটে গিয়েছে৷ দেখলে কেউ বলবে, যেন যুদ্ধক্ষেত্র৷ কিন্তু এই বিপুল হিংসার মধ্যেও কেউ কেউ যেন আলো বয়ে নিয়ে চলেছেন৷ যেমন প্রেমকান্ত বাঘেল৷

উত্তরপূর্ব দিল্লির শিব বিহার এলাকার বাসিন্দা প্রেমকান্ত৷ যেদিন হিংসা তীব্র আকার ধারণ করেছিল, সেদিন আক্রান্ত হয়েছিলেন প্রেমকান্তের প্রতিবেশীরাও৷ বেশ কয়েকঘর মুসলিম প্রেমকান্তের বাড়ির আশেপাশে থাকেন৷ তাঁদের বাড়িতেও চড়াও হয় হামলাকারিরা৷ পেট্রল বোমা ছোড়া হয়, আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় বেশ কয়েকটি বাড়িতে৷ তার মধ্যে একটি বাড়িতে আটকে পড়ে প্রেমকান্তের একটি পরিচিত পরিবার৷

তাঁদের অবস্থা দেখে চুপ করে থাকতে পারেননি তিনি৷ বেরিয়ে গিয়েছিলেন মুসলিম পরিবারের সদস্যদের বাঁচাতে৷ আগুন বাড়ছিল, সেই সময়েই বাড়ির ভিতর থেকে একের পর এক সদস্যকে বাইরে বের করে আনেন প্রেমকান্ত৷ এত চেষ্টার পরেও শেষ পর্যন্ত বাড়ির ভিতরে আটকে পড়েন ওই পরিবারেরই এক বৃদ্ধ মহিলা সদস্য৷ তাঁকে বের করতে গিয়েই বিপত্তি বাধে৷ নিজে অনেকটা পুড়ে যান তিনি, তবে বৃদ্ধাকে বাঁচিয়ে দেন৷

তারপর সেই রাতে পোড়া শরীর নিয়ে বাড়িতেই পড়েছিলেন প্রেমকান্ত৷ ঝামেলার কারণে সে রাতে অ্যাম্বুলেন্স আসেনি প্রেমকান্তকে নিতে৷ ৭০ শতাংশ পোড়া দেহ নিয়ে তিনি পড়েছিলেন৷ পরের দিন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে৷

সেখানে এখন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন প্রেমকান্ত৷ এক হাতে মুসলিম পরিবারের ছ’জনকে বাঁচিয়ে তিনি এখন মৃত্যু শয্যায়, কিন্তু হাসপাতালের বেড থেকেই বলছেন, তিনি খুশি৷ প্রতিবেশীদের বাঁচাতে পেরে তিনি তৃপ্ত৷