যেকারণে পদ্মায় তলিয়ে যান নববধূ পূর্ণিমা

স্বামী-সংসার নিয়ে হাজারো স্বপ্ন ছিল নববধূ সুইটি খাতুন পূর্ণিমার। শুক্রবার (৬ মার্চ) বিয়ের পর নতুন ভুবনে পা পড়েছিল তার। তার মেহেদি রাঙা হাত ধরে জীবনভর পাশে থাকার কথাও দিয়েছিলেন বর আসাদুজ্জামান রুমন। কিন্তু নিয়তি তাদের এই মায়ার বাঁধন ছিঁড়ে ফেললো নিমেষেই। কালিনী পদ্মায় মিশে গেলো লাল রঙ ভালোবাসা। পরনের লাল বেনারশি ফিরে এসেছে বিষাদের ছায়া হয়ে।

মর্মান্তিক এ নৌকাডুবিতে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন নববধূ পূর্ণিমা, তার খালা আঁখি (২৫) ও ফুফাতো বোনের মেয়ে রুবাইয়া (১০)। কিন্তু ভাগ্যক্রমে বেঁচে ফিরেছেন বর আসাদুজ্জামান রুমন (২৫)।

যেভাবে পদ্মার গহীনে তলিয়ে যান পূর্ণিমা

নববধূ পূর্ণিমার সঙ্গে একই নৌকায় ছিলেন তার আত্মীয় টুলু বেগম। নৌকাডুবিতে তিনি প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন। তিনিই জানালেন কীভাবে তলিয়ে গেছেন পূর্ণিমা।

প্রাণ নিয়ে ফেরা এই নারীর ভাষ্য, নৌকাডুবির পর প্রাণ বাঁচাতে তিনি পরনের শাড়ি খুলে ফেলেন। এরপর ভাসমান চরাট ধরে ভাসছিলেন। ওই সময় তিনি পূর্ণিমাকে হাবুডুবু খেতে দেখেন। কপালের টিকলি দেখে তিনি তাকে চিনতে পারেন। প্রাণ বাঁচাতে তিনি তাকে পরনের শাড়ি খুলে ফেলতে বলেন। এরপর শাড়ি খোলারচেষ্টাও করছিলেন পূর্ণিমা। কিন্তু পরক্ষণেই তলিয়ে যান।

ওই নৌকার যাত্রী ছিলেন টুলু বেগমের স্বামী আবদুর রাজ্জাক। তিনিও প্রাণ নিয়ে ফিরেছেন। আবদুর রাজ্জাক বলেন, ছোট ডিঙি নৌকায় যাত্রী উঠেছিল বেশি। ইঞ্জিন বিকল হওয়ার পর ঢেউয়ে নৌকায় পানি উঠে যাচ্ছিল। কয়েকজন পুরুষ যাত্রী পানিতে নেমে নৌকা জাগিয়ে রাখার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু অন্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ায় নৌকাটি কাত হয়ে উল্টে যায়।

দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া বর আসাদুজ্জামান রুমন জানান, নববধূসহ তিনি যে নৌকায় ছিলেন আচমকা সেটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। এরপর দমকা হাওয়ায় উল্টে গিয়ে তলিয়ে যায় নৌকাটি। ওই সময় তিনিসহ কয়েকজন যাত্রীকে উদ্ধার করে পাশ দিয়ে যাওয়া একটি ট্রলার। তবে অন্য নৌকাটি কীভাবে তলিয়ে গেছে তা তিনি জানেন না।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) পদ্মার ওপারের পবা উপজেলার চরখিদিরপুর এলাকার ইনসার আলীর ছেলে আসাদুজ্জামান রুমনের সঙ্গে একই উপজেলার ডাঙেরহাট এলাকার ট্রাক শ্রমিক শাহীন আলীর মেয়ে সুইটি খাতুন পূর্ণিমার বিয়ে হয়। রুমন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একজন ওয়ার্ড বয়। স্ত্রীকে নিয়ে পদ্মার এপারে সংসার পাততে চেয়েছিলেন তিনি। শুক্রবার (৬ মার্চ) বরের বাড়ি থেকে দুটি নৌকায় বর-কনেকে নিয়ে আসছিল কনেপক্ষ। সন্ধ্যা ৭টার দিকে নৌকা দুটি রাজশাহী নগরীর শ্রীরামপুর ডিসির বাংলো এলাকায় পদ্মা নদীতে ডুবে যায়। এতে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।