যে তিন কারণে হতে পারে পুরুষের স্তন ক্যান্সার!

বিশ্বজুড়ে প্রতি ৬টি মৃত্যুর মধ্যে ১টি মৃত্যুর কারণ হলো ক্যান্সার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ২০১৮ সালে শুধু ক্যান্সার আক্রান্ত হয়েই মৃত্যু হয়েছে ৯ দশমিক ৬ মিলিয়ন মানুষের। অর্থাৎ প্রায় এক কোটি মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী ক্যান্সার। এদের মধ্যে ২২ শতাংশ ক্যান্সার মৃত্যুর জন্য দায়ী তামাক। হু-র তথ্য অনুযায়ী নিম্ন ও মধ্যবিত্তের সংখ্যা যে দেশে বেশি, সেই দেশগুলোই সর্বাধিক ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছে।

বাংলাদেশে ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যাও বেশ। তবে এসব রোগীদের মধ্যে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্তও অনেক। নারী-পুরুষ উভয়ই এই ক্যান্সারে আক্রান্ত। তবে পুরুষদের মধ্যে ঠোঁট, ফুসফুস, পাকস্থলীর ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যা যেমন বেশি, তেমনই নারীদের ক্ষেত্রে আবার স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা সর্বাধিক। তবে স্তন ক্যান্সার যে শুধু মহিলাদেরই হচ্ছে তা নয়। পুরুষদের মধ্যেও এই ধরনের ক্যান্সার বাসা বাঁধতে পারে।

বার্ধক্যে থাকা পুরুষদের মধ্যেই স্তন ক্যান্সার বাসা বাঁধে, তবে অল্প বয়সীরাও এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে। যদি প্রথম ধাপেই স্তন ক্যান্সারকে শনাক্ত করা যায় তাহলে অল্পবয়সী পুরুষকে বাঁচানো সম্ভব। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বিশেষ করে পুরুষদের স্তন ক্যান্সারের ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা সংক্রামক টিস্যুগুলোকে অপারেশন করে বাদ দিয়ে দেয়। এছাড়াও কেমোথেরাপি ও রেডিয়েশন থেরাপিতে স্তন ক্যান্সার সারানো যায়।

গবেষণায় দেখা গেছে মধ্য ও পূর্ব আফ্রিকার পুরুষদের মধ্যে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাই বেশি। যকৃতে সংক্রমণ থেকেই তাদের স্তন ক্যান্সার হয়। চিকিৎসকরা মূলত তিনটি কারণকেই এর জন্য দায়ী করেছেন।

কারণ ১- জেনেটিক অর্থাৎ জন্মসূত্রেই পুরুষের দেহে এই রোগের জীবাণু থাকতে পারে। দেখা গেছে, স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পুরুষ বংশানুক্রমিকভাবেই স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন।

কারণ ২- শরীরে ইস্ট্রোজেন ও অ্যান্ড্রেজেন হরমোনের অনুপাতের তারতম্যের কারণেও পুরুষদের স্তন ক্যান্সার হতে পারে। এই ক্যান্সারের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয় থাইরয়েড সমস্যা, ওবেসিটি, যকৃতের কর্মহীনতা ইত্যাদি। এছাড়াও গাঁজা সেবনের অভ্যাস স্তন ক্যান্সারের কারণ হতে পারে।

কারণ ৩- অনেকসময় পুরুষের অণ্ডকোষও তাদের শরীরে স্তন ক্যান্সারের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, মধ্য ও পূর্ব আফ্রিকার পুরুষদের মধ্যে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাই বেশি। যকৃতে সংক্রমণের কারণে তাদের এই ক্যান্সার হয়।

বার্ধক্যে থাকা পুরুষদের স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তবে অল্প বয়সীরাও এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। প্রথম ধাপেই যদি স্তন ক্যান্সারকে শনাক্ত করা যায় তবে রোগীকে বাঁচানো সম্ভব।