সম্ভাবনাময় গারো তরুণের নাম- শান্ত ঘাগ্রা

জাডিল মৃঃ শান্ত ঘাগ্রা নামটি অপরিচিত লাগছে? অপরিচিত লাগতেই পারে।কারণ ভাইরাল না হলে যা হয় আর কী! বর্তমানে ভাইরাল মানে পরিচিত মুখ সেলিব্রেটি।যারা পরিচিত তাঁরা তো জানেন, শান্ত ঘাগ্রা কে? আবার যাদের অপরিচিত লাগছে বা চিনেন না, তাঁদের জন্যই এই লেখাটি।শান্ত ঘাগ্রাকে নিয়ে লেখার একটি বিশেষ কারণ আছে। সেই কারণটি পরে বলছি।তবে তার আগে তাঁর পরিচয়টি জানাতে চাই।

শান্ত ঘাগ্রা জন্মগ্রহণ করেন দূর্গাপুর উপজেলার গোপালপুর গ্রামে। ঢাকাতে ইংরেজী মিডিয়াম স্কুলে পড়াশুনা করেছেন।এখন পড়াশুনা করছেন ভূগোল বিষয়ে,৩য় বর্ষ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।তাঁরা দুই ভাইবোন। দিদির নাম গ্লোরি ঘাগ্রা।

শান্ত ঘাগ্রার সাথে আমার প্রথম পরিচয় বা দেখা সাক্ষাৎ হয়, রাজা পরেশ চন্দ্র মৃ-এর বাড়িতে (চুনিয়া,আ’বিমা)।তাঁরপর দ্বিতীয় বার ঢাকায় কিছুক্ষণের জন্য দেখা হয়।আমরা একি ব্যাচের হলেও তাঁর সাথে গভীর মেলামেশা বা আড্ডা দেওয়ার সুযোগ হয়নি। আমাদের দুজনের শুধু কিছুক্ষণের জন্য দেখা সাক্ষাৎ হয়েছে।ফলে কেন তাকে নিয়ে লিখছি, সেটা সরাসরি বলাই ভালো।

আমাদের অনেকের বেশিভাগ পছন্দ ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল, ব্যাডমিন্টন,বক্সিং আরো কত কী! কিন্তুু “থাই বক্সিং” এর সাথে জড়িত বা খেলে কতজন গারো তরুণ বা তরুণী আছে। হয়তো নেই! কিন্তু আমার জানা মতে গারোদের মধ্যে “থাই বক্সিং” খেলোয়াড় একজন আছে।যাকে ইতোমধ্যে আমি পরিচয় করিয়ে দিয়েছি, নাম শান্ত ঘাগ্রা।ছোটবেলায় অনেক বড় ভাইদের দেখেছি কারাতে, মার্শাল আর্ট শিখতেন।তবে “থাই বক্সিং” বা “বক্সিং” খেলোয়াড় আমার জানা নেই।একমাত্র গারোদের মধ্যে শান্ত ঘাগ্রা “থাই বক্সিং” এর সাথে জড়িত।আমাদের অন্যান্য খেলার চাইতে ফুটবলের প্রতি মনোযোগ ও ভালোবাসা বেশি।কিন্তু সেই ধারা থেকে বেরি এসে শান্ত “থাই বক্সিং” এ নিজেকে জড়িয়েছেন।তা প্রসংশা না করে থাকতে পারলাম না।ফেইসবুকের মারফতে তাঁর প্রতিযোগীতার বিজয়ের ছবি দেখি।ফলে আগ্রহী হয়ে তাঁর সাথে যোগাযোগ করি।এবং “থাই বক্সিং” এর সাথে জড়িয়ে পড়ার গল্প ফেইসবুকের মাধ্যমে জানার চেষ্টা করি ।যা আপনাদের জন্য সংক্ষিপ্ত আকারে জানানোর চেষ্টা করলাম।
সে জানায়,যখন সে ‘এ লেভেল’ এইচএসসি পরীক্ষা দেয়, সেই সময় থেকেই থাই বক্সিং শিখতে শুরু করেন।দুই বছর ধরে নিকেতন পার্কে গুরু নিনশিয়াম-এর কাছ থেকে শিখেছেন।গুরু ফিলিপাইন ও মালোইশিয়ায় প্রফেশনাল রেফারি ছিলেন।তাঁরপর বাংলাদেশে এসে থাই বক্সিং শিখানো শুরু করেন।শান্ত গুরুর ২য় ব্যাচের ছাত্র ছিল ।অসংখ্য বিদেশি ও বাঙালি ছাত্র থাকার কারণে তিনি একটি জিম তৈরি করেন গুলশান-১ এ।নাম রাখেন-VO2 Urban Fitness gym.

এখন পর্যন্ত শান্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আন্তঃ হল প্রতিযোগিতায় জুডো টুর্নামেন্ট এ ব্রোঞ্জ জিতেছেন ।আরেক বার জাতীয় জুডো টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করেছিলেন।থাই বক্সিং প্রতিযোগিতায় সিলভার পেয়েছেন। ভার উত্তোলন ৭০-৭৫ কেজি , সেটাও খেলেছেন।এখন থাই বক্সিং এর পর জুডো শিখছেন। এখন Blue Belt এ আছেন।আমাদের কাছে এই বিষয়গুলো ছোট মনে হলেও, তাঁর অর্জন ও প্রাপ্তি কিন্তুু অনেক।

আমাদের জন্য নিশ্চিয় সু-সংবাদ যে থাই বক্সিং,জুডো বা ভার উত্তোলন এ শান্ত নামে গারোদের মধ্যে কেউ একজন আছেন। যে কিনা নীরবে নিভৃতে খেলে চলছেন।হয়তো ভবিষ্যতে বড় কোন প্লাটফর্মে খেলতে যাবেন। দেশ ও জাতির নাম উজ্জ্বল করবেন।তথাকথিত খেলার বাইরে ভিন্ন পন্থা খেলার যে বিষয়, সেই পন্থাগুলো যেমন কঠিন তেমনি পৃষ্ঠপোষকতা আবশ্যক।

এই হলো শান্ত ঘাগ্রাকে নিয়ে লেখা এবং তাকে গুরুত্বপূর্ণ দেবার কাররণ। সে এগিয়ে যাক তার স্বপ্নের লক্ষ্যে। একদিন শান্ত ঘাগ্রা হয়ে উঠবেন আমাদের জাতির জন্য অমূল্য সম্পদ। এখন প্রয়োজন পৃষ্ঠপোষকতা এবং সাধনা।