৭ সুন্দরীকে নিয়ে অ’নৈতিক ব্যবসা, কোটি কোটি টাকার মালিক পাপিয়া

অসহায় সুন্দরী ৭ নারীকে নিয়ে অ’নৈতিক ব্যবসা করতেন শামীমা নুর পাপিয়া। হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা।

রাজধানীর গুলশানের অ’ভিজাত হোটেল ওয়েস্টিনে প্রেসিডেন্ট স্যুট নিজের নামে সবসময় বুকড করে নানা ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছিলেন শামিমা নূর পাপিয়া নামে এক নারী।যিনি হোটেলটির বারে বিলবাবদ প্রতিদিন পরিশোধ করতেন প্রায় আড়াই লাখ টাকা।

বৈধ আয় অনুযায়ী, পাপিয়ার বাৎসরিক আয় মাত্র ১৯ লাখ টাকা। অথচ হোটেল ওয়েস্টিনে শুধুমাত্র গত তিন মাসেই বিল পরিশোধ করেছেন প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা। যিনি নারী সংক্রান্ত অ’পকর্ম ছাড়াও অ’স্ত্র-মা’দক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন তদবির বাণিজ্যের সঙ্গে জ’ড়িত বলে জানিয়েছে র‌্যা’ব।

শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর হ’জরত শাহ’জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে দেশত্যাগের সময় শামিমা নূর পাপিয়া ওরফে পিউসহ (২৮) চারজনকে আ’ট’ক করে র‌্যা’ব-১।

আ’ট’ক অন্যরা হলো- পাপিয়ার স্বামী মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরী ওরফে মতি সুমন (৩৮), সাব্বির খন্দকার (২৯) ও শেখ তায়্যিবা (২২)।

এ সময় তাদের কাছ থেকে সাতটি পাসপোর্ট, নগদ ২ লাখ ১২ হাজার ২৭০ টাকা, ২৫ হাজার ৬০০ জাল টাকা, ১১ হাজার ৯১ ইউএস ডলারসহ বিভিন্ন দেশের মুদ্রা জ’ব্দ করা হয়।

র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে র‍্যাব ১ এর অধিনায়ক শাফিউল্লাহ বুলবুল বলেন, আ’ট’ক পপিয়ার তেজগাঁও এফডিসি গেট সংলগ্ন এলাকায় অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে একটি গাড়ির শো রুম এবং নরসিংদীতে একটি গাড়ি সার্ভিসিং সেন্টার রয়েছে। এসব ব্যবসার আড়ালে তিনি অ’বৈধ অ’স্ত্র, মা’দক ব্যবসা, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অ’নৈতিক কর্মকা’ণ্ডে জ’ড়িত।

‘পাপিয়া সমাজ সেবার নামে নরসিংদী এলাকায় অসহায় নারীদের আর্থিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে তাদের অ’নৈতিক কাজে লিপ্ত করতেন। এজন্য অধিকাংশ সময় নরসিংদী ও রাজধানীর বিভিন্ন বিলাসবহুল হোটেলে অবস্থান করে অ’নৈতিক কাজে নারী সরবরাহ করে আসছিলেন তিনি।’

লে. কর্নেল বুলবুল বলেন, পাপিয়া গত তিন মাসে শুধুমাত্র ওয়েস্টিন হোটেলে ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা বিল পরিশোধ করেছেন। তার নামে ওয়েস্টিন হোটেলের প্রেসিডেন্ট স্যুট সবসময় বুকড থাকতো। হোটেলে প্রতিদিন শুধুমাত্র বারের খরচবাবদ প্রায় আড়াই লাখ টাকা পরিশোধ করতেন। ওয়েস্টিনে তার নিয়ন্ত্রণে সাতটি মেয়ের কথা জানা গেছে। যাদের প্রতি মাসে ৩০ হাজার করে মোট ২ লাখ ১০ হাজার টাকা পরিশোধ করতেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নরসিংদী এলাকায় চাঁদাবাজির জন্য পাপিয়ার একটি ক্যাডার বাহিনী রয়েছে। স্বামীর সহযোগিতায় অ’বৈধ অ’স্ত্র, মা’দক ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে স্বল্প সময়ের মধ্যে তিনি নরসিংদী ও ঢাকায় একাধিক বিলাসবহুল বাড়ি-গাড়িসহ বিপুল পরিমাণ অর্থের মালিক হয়েছেন।

এছাড়া তিনি বিভিন্ন ধরনের তদবির বাণিজ্যের সঙ্গেও জ’ড়িত। তবে এ বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি।

র‌্যা’ব জানায়, আ’ট’ক মতি পেশায় একজন ব্যবসায়ী। দেশে স্ত্রী’র ব্যবসায় সহযোগিতার পাশাপাশি থাইল্যান্ডে তার বারের ব্যবসা রয়েছে। তিনি তার স্ত্রী’র মাধ্যম প্রত্যন্ত অঞ্চলের অসহায় নারীদের অ’নৈতিক কাজে ব্যবহার করতেন। অ’বৈধ অ’স্ত্র, মা’দক ব্যবসা, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অ’প’রাধের জন্য নরসিংদী এলাকায় তার কু-খ্যাতি রয়েছে।

আ’ট’ক সাব্বির খন্দকার পাপিয়ার ব্যক্তিগত সহকারী এবং আ’ট’ক তায়্যিবা মতি সুমনের ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। পাপিয়া ও মতি সুমনের ব্যক্তিগত সম্পত্তির হিসাব রক্ষণাবেক্ষণসহ সব অ’বৈধ ব্যবসায় এবং অর্থপাচার ও রাজস্ব ফাঁকি দিতে সহযোগিতা করে আসছিলেন তারা।