প্রথম গারো আদিবাসী লিঙ্গ পরিবর্তন করে পুরুষ থেকে নারী!(ছবি দেখতে ক্লিক করুন)

ট্রান্সজেন্ডার শব্দটির সাথে কমবেশি সবাই পরিচিত। ট্রান্সজেন্ডার তাদেরকেই বলা হয় যারা নিজেদের লিঙ্গকে রুপান্তর করে অন্য লিঙ্গের হয়ে যায়। অনেকেই জানেন না, মিডিয়া বা বিভিন্ন কর্ম মাধ্যমে ট্রান্সজেন্ডার মডেলের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। এই জায়গাগুলোতে রূপবতী, লাবণ্যময়ী মডেলদের দেখতে হুবহু নারীদের মতোই এমনকি তারা নিজেদেরকে মহিলাদের মতো করেই উপস্থাপন করছে। অথচ এরা সকলেই জন্মগ্রহণ করেছিল পুরুষ হয়ে। এদেরকে দেখলে কোনোভাবেই বুঝতে পারা যায় না যে এরা ট্রান্সজেন্ডার।

আমাদের দেশসহ ভারত এবং পশ্চিমা দেশগুলোতে তারকাদের মতো সুন্দরী অসংখ্য হিজড়া রয়েছে। এরমধ্যে ভারতেই হিজড়ার সংখ্যা এক কোটির কাছাকাছি। এজন্যই ভারতসহ পশ্চিমা বিশ্বের অনেক দেশই তৃতীয় লিঙ্গের দেশ হিসেবে পরিচিত। তবে গারো সম্প্রদায়ের মধ্যে বিশ্বে প্রথম লিঙ্গ পরিবর্তন করে অন্য লিঙ্গের হয়েছে।

নিপুন দারু সম্প্রতি গারোদের মধ্যে ইতিহাস তৈরি করেছেন একজন গারো ছেলে থেকে মেয়ে হয়ে নিপুন নাবিলা!

নিপুন নাবিলা ২৮ বছর বয়সী একজন বাংলাদেশী মডেল এবং ডান্সার। যিনি নর্দান কলেজ বাংলাদেশ বিবিএ ডিপার্ট্মেন্ট এবং নৃতাঞ্চল নাচের একাডেমি এর একজন নিয়মিত ছাত্র। তিনি তার বডি সার্জারি করে পুরুষ থেকে হয়েছেন নারী। পরিবারের সম্মতি নিয়ে তিনি পুরুষ থেকে নারীতে রূপান্তরিত হয়েছেন। নিপুন নাবিলার চেহারা দেখে এখন কোনো মানুষই সাধারন চোখে শনাক্ত করতে পারবে না এটি ট্রান্সজেন্ডার নাকি ছেলে!

লিঙ্গ রুপান্তর সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে, তিনি বলেন ঈশ্বর আমাকে সৃষ্টি করেছিল একজন ছেলে হিসেবে। আমার শরীরটা ছিল ছেলের কিন্তু মনটা ছিল মেয়ের মতো। আমার ফিলিংস, আমার ইচ্ছা ছিলো মেয়ের মতো। আমি আমার মনের কথা কাউকে শেয়ার করিনি। করতে পারতামও না লজ্জা হতো। ভয় লাগতো যদি কিছু মনে করে,কিন্তু নিজে নিজে অনেক কষ্ট পেতাম। ঈশ্বরকে বলতাম কেন তুমি আমাকে এভাবে সৃষ্টি করেছো? যাই হোক, ছোটকাল থেকেই আমার নিজের প্রতি সেলফ কনফিডেন্স ছিলো। আমার কেন জানি মনে হতো আমি একদিন মেয়ে হয়ে যাবো, ঈশ্বরের কাছে অনেক প্রার্থনাও করতাম নিজেকে পরিবর্তনের জন্য! কিন্তু এটাও জানতাম এটা করা সম্ভব না, ইন্ডিয়া যাওয়ার পর নিজের চোখে অনেক কিছু দেখলাম, শিখলাম। সব থেকে ভাল লেগেছিল যে এখানে জেন্ডার পরিবর্তন করা যায়। ভারতে কিছু মহিলা আছে যারা এখন ইন্ডিয়ার টপ মডেল, ওদেরকে দেখে আমিও ইন্সপেরেশন পেয়েছি। আমি আর পিছন ফিরে তাকাইনি। সামনের দিকে এগিয়ে গেছি, এবং আমি সফল হয়েছি!

লিঙ্গ পরিবর্তনের পর পরিবার, বন্ধু বান্ধব কেমন দেখছে? তাদের প্রতিক্রিয়া কেমন পাচ্ছেন? জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, বাংলাদেশে আমার পরিবার এবং বন্ধু বান্ধব সবার কাছ থেকে পজেটিভ সাপোর্ট পাচ্ছি। ফাইনালি আমার পরিবার আমাকে অনেক সাপোর্ট করেছে। পরিবারের দুই একজন আছে এখনও আমার লিঙ্গ পরিবর্তন নিয়ে মেনে নিতে পারেনি। তাদের কথাবার্তায় অনেক কষ্ট পেয়েছি। কিন্তু আমি এই ধরনের ছোট খাটো বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছি না। আমি জানি আমি কে, আমার নিজের প্রতি আস্থা আছ। তিনি বলেন, আমার যেটা ভাল মনে হয় আমি সেটাই করছি।

তাছাড়া তিনি আরোও বলেন, নাচ আমর রক্তের সাথে মিশে গেছে, মরার আগ পযর্ন্ত নাচ করে যাবো। আমি ইন্ডিয়াতে ওয়েস্টার্ন নাচ শিখেছি, ক্লাসিকেল নাচ তো পারি। আমি যেখানেই থাকি নাচ নিয়ে ভাল কিছু করবো। ইচ্ছা আছে দেশে একটা নাচের একাডেমি খুলবো। ওয়েস্টার্ন এবং ক্লাসিকেল দুটোই।

আমার সাহস যুগিয়েছে আমার ঈশ্বর। আমি সবসময় প্রার্থনা করতাম এবং করি। আমি আমার মনের শক্তি,সাহস ঈশ্বরের কাছ থেকেই পাই। এটা ঠিক যে, সার্জারি করে লিঙ্গ পরিবর্তন করতে অনেক অর্থের বিষয় আছে। ভারতে আমি যাদের সাথে আছি, তারাই আমার সব ধরনের সাহায্য করে যাচ্ছে এবং আমার পরিবারের সহযোগীতা পাচ্ছি।