সেলাই হাতের ক্যাচ ধরা মনে রাখিনি, তাই দ্রুতই বিদায় বললাম!

জগৎ টা তো এমনই! বুড়ো মা-বাবাকে দিয়ে আসি বৃদ্ধাশ্রমে। চাকরি শেষ হওয়ার পরদিন থেকে মুছে যায় আশেপাশের সব মোসাহেবি আর জ্বি-হুজুরি। অতীত গৌরব চলে যায় পুরাতন পেপারের ধুলিময় স্তূপে।

এ চারপাশের মানুষগুলো কিচ্ছু চেনে না। চেনে শুধু সাফল্য, পারফরম্যান্স আর…বর্তমান। একের পর এক অস্ত্রোপচারে কতটা যন্ত্রণা, ভুলে গেছি আমরা।

সম্মানজনক হারের আঁচলের পেছনে মুখ লুকানো দলটাকে জয়ের স্পর্ধা দেখানোও মনে পড়ে না। দলের সবার মধ্যে ‘তুই পারবি’ বলে সাহস যোগানোর কথাটাকে বানিয়ে দিয়েছি ট্রল।

অসাধারণ সব স্পেল, প্রতিপক্ষকে হারের লজ্জায় ডোবানোর স্কোরশিটগুলোও খুঁজে পাচ্ছি না এখন। হাতে সেলাই নিয়ে অসাধারণ ক্যাচ ধরাটাও তো অন্যায়! তাই মনে রাখি নি একদম।

মনে রেখেছি শেষ কটা দিন। কত ম্যাচ উইকেটশূন্য ছিল সেই হিসাবটা গেঁথে আছে মনে। মাঠের বাইরের পরিচয়টাকে মাঠের সাথে মেশানোর কথাটা ভুলি নি একদম।

আমরা এমনই। অতীত ভুলতে পছন্দ করি। শেষ অংশটাই আমাদের পুরো গল্প। সমালোচনা করতে, আঘাত করতে এটুকু তো করতে হতোই! তাই, তড়িঘড়ি করে বিদায় বলে দিচ্ছি।

বাংলাদেশ ক্রিকেটের দর্পের এক যুগের সমাপ্তি হলো। বিদায়গুলো ঠেকানোর মতো ক্ষমতা সৃষ্টিকর্তা আমাদেরকে দেন নি। যেমন করে ঠেকানো যায় না কষ্টের নীল জল।

আমাদের একজন সত্যিকারের অধিনায়ক ছিল। আজ (শুক্রবার, ০৬ মার্চ) থেকে নেই।

লেখক: মনদীপ ঘরাই, সিনিয়র সহকারী সচিব, (সাবেক ক্রীড়া সাংবাদিক)।